দিতে শুরু করে । আর যখনই মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করে তখন সে পশ্চাদাপসরণ করে । ( তাবারী ২৪/৭০৯ ) মুজাহিদ ( রহঃ ) এবং কাতাদাহও ( রহঃ ) অনুরূপ মন্তব্য করেছেন । ( তাবারী ২৪/৭১০ ) সুখ - শান্তি এবং দুঃখ কষ্টের সময় এবং অতি সুখের সময়েও শাইতান মানুষের মনে ছিদ্র করতে চায় । অর্থাৎ তাকে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করে । এ সময়ে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে তাহলে শাইতান পালিয়ে যায় । ( তাবারী ২৪/৭১০ ) ইব্ন আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে , শাইতানকে মানুষ যেখানে প্রশ্রয় দেয় সেখানে সে মানুষকে অন্যায় অপকর্ম শিক্ষা দেয় , তারপর কেটে পড়ে । ( তাবারী ২৪/৭১০ ) এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেন الذي يوسوس في صدور الناس মানব মণ্ডলীর অন্তরসমূহে কুমন্ত্রণা দেয় । ناس শব্দের অর্থ মানুষ । তবে এর অর্থ জিনও হতে পারে । কুরআনুল হাকীমের অন্যত্র রয়েছে ঃ ১ ১৬ , অর্থাৎ জিনের মধ্য হতে কতকগুলো লোক । কাজেই জিনসমূহকে ناس শব্দের অন্তর্ভুক্ত করা অসঙ্গত নয় । মোট কথা , শাইতান জিন এবং মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে । ( জিনের মধ্য হতে অথবা মানুষের মধ্য হতে ) । অর্থাৎ এরা কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে , তা সে জিন হোক অথবা মানুষ হোক । এর তাফসীর এরূপও করা হয়েছে । মানব ও দানব শাইতানরা মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয় । যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা অন্য এক জায়গায় বলেন !! আর এমনিভাবেই আমি প্রত্যেক নাবীর জন্য বহু শাইতানকে শত্রুরূপে সৃষ্টি করেছি ; তাদের কতক মানুষ শাইতানের মধ্য হতে এবং কতক জিন শাইতানের মধ্য হতে হয়ে থাকে , এরা একে অন্যকে কতকগুলি মনোমুগ্ধকর ধোঁকাপূর্ণ ও প্রতারণাময় কথা দ্বারা প্ররোচিত করে থাকে । ( সূরা আন'আম , ৬ঃ ১১২ ) মুসনাদ আহমাদে ইব্ন আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে , একটি লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল ঃ ‘ হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আমার মনে এমন সব চিন্তা আসে যেগুলো প্রকাশ করার চেয়ে আকাশ থেকে পড়ে যাওয়াই আমার নিকট বেশী পছন্দনীয় ( সুতরাং এ অবস্থায় আমি কি করব ? ) । নাবী সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন ঃ ‘ ( তুমি বলবে ) ‘ আল্লাহ মহান , আল্লাহ মহান আল্লাহ তা'আলার জন্যই সমস্ত প্রশংসা যিনি শাইতানের প্রতারণাকে ওয়াস্ত্তয়াসা অর্থাৎ শুধু কুমন্ত্রণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন , বাস্তবে কাজে পরিণত করেননি । ' ( আহমাদ ১/২৩৫ , আবূ দাঊদ ৫/৩৩৬ , নাসাঈ ৬/১৭১০ )
সূরা নাস্ এর তাফসীর
এ সূরায় মহামহিমান্বিত আল্লাহর তিনটি গুণ বিবৃত হয়েছে । অর্থাৎ তিনি হলেন পালনকর্তা , শাহানশাহ এবং মা'বূদ বা পূজনীয় । সব কিছু তিনিই সৃষ্টি করেছেন , সবই তাঁর মালিকানাধীন এবং সবাই তাঁর আনুগত্য করছে । তিনি তাঁর প্রিয় নাবী সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দিচ্ছেন ঃ হে নাবী ! তুমি বলে দাও , আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের , মানুষের অধিপতির এবং মানুষের মা'বূদের , পশ্চাদাপসরণকারীর অনিষ্টতা হতে যে মানুষের অন্তরসমূহে কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনা দিয়ে থাকে । তা সে জিন হোকঅথবা মানুষ হোক । অর্থাৎ যারা অন্যায় ও খারাপ কাজকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে মানুষের চোখের সামনে হাযির করে পথভ্রষ্ট এবং বিভ্রান্ত করার কাজে অতুলনীয় । এমন কাজ নেই যা করতে তারা এতটুকু দ্বিধাবোধ করে । আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই শুধু তাদের অনিষ্টতা হতে রক্ষা পেতে পারে । সহীহ হাদীসে রয়েছে যে , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন “ তোমাদের মধ্যে এমন কোন লোক নেই যার সাথে একজন করে শাইতান না রয়েছে । ' সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন “ হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আপনার সাথেও কি শাইতান রয়েছে ? ' উত্তরে তিনি বললেন : ‘ হ্যা আমার সঙ্গেও শাইতান রয়েছে ? কিন্তু আল্লাহ তা'আলা ঐ শাইতানের মুকাবিলায় আমাকে সাহায্য করছেন , কাজেই আমি নিরাপদ থাকি । ফলে সে আমাকে সৎ আমল ও কল্যাণের শিক্ষা দেয় । ' ( মুসলিম ২১৬৭ ) সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইতিকাফে থাকা অবস্থায় উম্মুল মু'মিনীন সাফিয়া ( রাঃ ) তাঁর সাথে রাতের বেলায় দেখা করতে গিয়েছিলেন । তিনি ফিরে যাবার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাঁকে এগিয়ে দেয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকেন । পথে দু’জন আনসারীর সাথে দেখা হল । তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর স্ত্রীকে দেখে দ্রুতগতিতে হেঁটে যাচ্ছিলেন । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে থামালেন এবং বললেন‘জেনে রেখ যে , আমার সাথে যে মহিলাটি রয়েছেন তিনি আমার স্ত্রী সাফিয়া বিনতে হুইয়াই ( রাঃ ) । ” তখন আনসারী দু’জন বললেন : “ আল্লাহ পবিত্র । হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! এ কথা আমাদেরকে বলার প্রয়োজনই বা কি ছিল ? ” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন ঃ ‘ মানুষের রক্ত প্রবাহের মত শাইতান ঘুরাফিরা করে থাকে । সুতরাং আমি আশংকা করছিলাম যে , শাইতান তোমাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে দিতে পারে । ' ( ফাতহুল বারী ৪/৩২৬ ) সাঈদ ইব্ন যুবাইর ( রহঃ ) ইব্ন আব্বাস ( রাঃ ) হতে এ আয়াত সম্পর্কে বলেন যে , শাইতান আদম সন্তানের মনে তার থাবা বসিয়ে রাখে । মানুষ যখনই অন্য মনস্ক থাকে কিংবা বেখেয়াল থাকে তখনই শাইতান কুমন্ত্রণা
EmoticonEmoticon